সর্বশেষ আপডেট
ছেলেদের মধ্যে যে জিনিস দেখলে যে কোনো মেয়েরা দুর্বল হয়ে যায় । মালয়েশিয়া থেকে ফিরতেই হবে অবৈধ বাংলাদেশিদের । বিদেশ যাওয়ার আগে চুক্তিপত্র দেখাতে হবেঃ প্রবাসী কল্যাণ সচিব । মালয়েশিয়ায় সাধারণ ক্ষমাঃ ফ্লাইট বাড়লেও কমেনি ভাড়া । মালয়েশিয়ার অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিমানের ১৬ টি ফ্লাইট । বিশ্বের প্রথম বিমান-গাড়ি; আকাশে পাড়ি দিতে পারে ঘন্টায় ২০০ মাইল । ৬ ঘন্টা হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফিরলেন এক নারী । লন্ডনে প্রতি ১০ জনের ১ জন কথা বলে বাংলা ভাষায় । আজ ০৯/১২/২০১৯ তারিখ, দিনের শুরুতেই দেখে নিন আজকের টাকার রেট কত । যে ২৪টি যৌ’ন আকাঙ্ক্ষা মেয়েদের রয়েছে, অনেক পুরুষরা এখনো জানে না ।
২৮৭ তরুণীর সর্বনাশের পর শ্রীঘরে সেই যুবক ।

২৮৭ তরুণীর সর্বনাশের পর শ্রীঘরে সেই যুবক ।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম রাব্বী হোসেন চৌধুরী। তবে পরিচয়পত্রটি নকল; নিজের মর্জিমাফিক নাম-তথ্যাদি যুক্ত করে বানানো হয়েছে। কখনো তিনি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এমডি; কখনোবা নামিদামি করপোরেট হাউসের জিএম। চলাফেরায় বেশ ধোপদুরস্ত; কথাবার্তায় ঝলকে উঠে হাই ক্লাস সোসাইটির ফুলঝুরি। আর এসব অভিজাত্যপূর্ণ নাম-ধাম-পোশাক ও চাল-চলনের নেপথ্য উদ্দেশ্যটি খুবই কু’ৎসিত। সমাজের প্রতিষ্ঠিত নারীরা তার টা’র্গেট।

কথার মোহে আ’কৃষ্ট করে তিনি তরুণীদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধ’র্ষণ। এটি প্রাথমিক পর্ব। পরবর্তী পর্ব- ভ’য়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থসহ মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। দু-একজন নয়, এ পর্যন্ত ২৮৭ তরুণীকে সর্বস্বান্ত করেছেন তিনি। এহেন পাপের পর পরিশুদ্ধ হতে সৌদি আরবেও যাওয়ার ইচ্ছে ছিল তার। তবে তার আগে পা’পকর্মের ঝোলাটি আরও ভারী করে নিতে চেয়েছিলেন;

চেয়েছিলেন ৭০০ তরুণীকে ধ’র্ষণের পরই সৌদি আরবে যাবেন তিনি। বিকৃ’ত মানসিকতার মা’রাত্মক ধূর্ত এ রয়েল-চিটারের প্রকৃত নাম জাকির হোসেন বেপারি। প্রতারণা করে বিয়ে; তারপর ভুক্তভোগীর সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে দিনই ধ’র্ষণের অ’ভিযোগে এক তরুণী মিরপুর মডেল থানায় জাকিরের বিরু’দ্ধে মামলা করেন।

এ সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন জাকিরের প্র’তারণার শিকার আরও চার নারী। তারা সবাই চাকরিজীবী। পরবর্তী সময়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাকির তার প্রতা’রণাকা-ের অনেক কিছুই ফাঁ’স করে দেন। তবে এরপর ওই মামলা থেকে জামিনে বের হয়ে ফের প্র’তারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন জাকির। মিথ্যা বিয়ের পর এক তরুণীর সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযো’গে ফের শ্রীঘরের বাসিন্দা হয়েছেন এ প্র’তারক।

তার বিরু’দ্ধে গত বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা করেছেন মণিপুরি পাড়ার একটি ছাত্রী হোস্টেলের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। অভিযোগের ভিত্তিতে সে দিনই জাকির ও তার সহযোগী জায়েদা আক্তার শাপলাকে গ্রে’প্তার করে তেজগাঁও থানাপুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তৌফিক আহমেদ জাকিরের ৫ দিনের রিমা’ন্ড চাইলে আদালত তার ২ দিনের রিমা’ন্ড মঞ্জুর করেন। রিমা’ন্ড না চাওয়ায় শাপলাকে কা’রাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

জানা গেছে, প্রতারণার ফাঁ’দ পেতে তরুণীদের সর্বস্ব লুটে নিতে জাকিরের রয়েছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। সংঘব’দ্ধ ওই চক্রে রয়েছে ন’কল কাজী ও মৌলভি। এ ছাড়া চক্রের কিছু নারী-পুরুষ নিজের মা-বাবা ও ভাইবোন বানিয়ে জাকির তরুণীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। তাদের সঙ্গে কথা বলিয়ে ভুক্তভোগীদের বুঝতেই দিতেন না কী ভয়’ঙ্কর প্রতা’রণার ফাঁ’দে ফেলা হচ্ছে তাদের। এভাবে বিয়ের নামে গত দুই বছরে জাকির ২২ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী নারীকে ধ’র্ষণ করেছেন।

এরপর অ’ন্তরঙ্গ’ ছবি তুলে সেগুলো ইন্টারনেটে ছাড়ার হু’মকি দিয়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। সম্প্রতি ফেসবুকে বিয়ের নামে আরেকটি প্র’তারণার ফাঁদ পেতেছিলেন জাকির। অবশ্য এবার তিনি নিজেই ফাঁ’দে পড়েন; আগেভাগেই প্র’তারণার শিকার নারী বুঝে ফেলেন জাকিরের উদ্দেশ্য। ওই তরুণী জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে গত ৩১ অক্টোবর জাকিরের সঙ্গে তার পরিচয়।

এর পর ভুলিয়ে-ভালিয়ে তার সঙ্গে জাকির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত ৭ নভেম্বর নিজস্ব সি’ন্ডিকেটের হুজুর ডেকে তাকে বিয়েও করেন। হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান তিনি ওই তরুণীকে এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন বেশ কয়েকবার। শুধু তাই নয়, নানা বিপদ বা সমস্যার কথা বলে জাকির ওই তরুণীর কাছ থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪৫ হাজার টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।

জাকিরের প্রতা’রণার শি’কার রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, মিরপুর, বারিধারা, মালিবাগ, দক্ষিণখান, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী ১৭ ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই জাকিরকে শনাক্ত করে তাকে প্রতা’রক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভুক্তভোগী তরুণীদের মাধ্যমে পাওয়া গেছে জাকিরের তিনটি বিয়ের কাবিনসহ তার প্রতা’রণায় ব্যবহৃত অসংখ্য ছবি, ফেসবুকের চ্যাটবক্সে কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও ভিডিও ক্লিপ।

পুলিশের কাছেও বিয়ের নামে প্রতা’রণার চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন জাকির। এদিকে জাকিরের বিরু’দ্ধে মিরপুর এলাকার ভুক্তভো’গী যে তরুণী মামলা করেছেন, তিনি অভি’যোগ করেন ওই প্র’তারকের সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাকে মামলা তুলে নিতে হু’মকি দিচ্ছেন। না হলে তার মুখ অ্যা’সিড দিয়ে ঝ’লসে দেওয়া হবে এবং অন্ত’রঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে হু’মকি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীরা জানান, জাকিরের প্র’তারণার শিকার সবার গল্প প্রায় একই রকম।

যেমন- জাকির প্রথমে বেছে নেন ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী নারী। এরপর ফেসবুক অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে নিজেকে অবিবাহিত এবং প্রচুর টাকার মালিক ও প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। নানাভাবে বিয়ের জন্য রাজি হতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে তার নির্ধারণ করা কোনো বাসায় নকল কাজী বা হুজুর ডেকে এনে পড়ানো হয় বিয়ে। এরপর কৌশলে তাদের অ’ন্তর’ঙ্গ ছবি তুলে রাখেন জাকির। বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পরই বেরিয়ে আসে তার আসল চেহারা।

বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মেয়ের সব টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে একপর্যায়ে সটকে পড়েন তিনি। বন্ধ করে দেন সব ধরনের যোগাযোগ। এরপর নতুন কোনো মেয়েকে একইভাবে বিয়ের ফাঁ’দে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে কোনোভাবে ভুক্তভো’গীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে অ’স্বীকার করেন বিয়ের কথা। ভুক্তভোগী কেউ প্রতিবা’দী হলেই তার ব্যক্তিগত ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ফের ব্লা’কমেইল করা শুরু করেন। সম্মান খো’য়ানোর হু’মকি দিয়ে তার কাছ থেকে আদায় করেন লাখ লাখ টাকা।

কথা না শোনায় ইতোমধ্যে কয়েকটি মেয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন জাকির। তার বিয়ের ফাঁ’দে পড়ে এখন অনেক তরুণীরই জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে অনেকের পরিবারও। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই তৌফিক আহমেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জাকির বিয়ের নামে অনেক নারীর সঙ্গে প্রতা’রণা করার কথা স্বীকার করেছেন। এসব কা-ের তথ্যপ্রমাণও পাওয়া গেছে। দুই দিনের রি’মান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে পাওয়া তথ্যানুযায়ী এ চক্রে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে, জানান এসআই তৌফিক। সূত্র : আমাদের সময়।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme