সর্বশেষ আপডেট
যে কারণে শাজাহান খানের সঙ্গে লাইভ টক শো করতে চান ইলিয়াস কাঞ্চন আজ ১১/১২/২০১৯ তারিখ, দিনের শুরুতেই দেখে নিন আজকের টাকার রেট কত । প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবরঃ ‘প্রবাসী বন্ডে’ বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশী লাভ । যে কারণে আপন দুই বোনকে বিয়ে করলেন একমাত্র বর । এবার জনসম্মুখেই ধ’র্ষণ করা হলো তরুণীকে । মিথিলার আগে এই ৬ অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সৃজিত । ভারতের সংসদেই মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব বিলের কপি ছিঁড়লেন ওয়াইসি । মোবাইল ফোনে বিয়ে, স্ত্রীকে দেখে মরতে পারলেন না মালেয়শিয়া প্রবাসী । স্বপ্নে শারীরিক সম্পর্ক হলে যা করবেন । মালেয়শিয়া প্রবাসীদের ঢাকা ফিরতে খরচ হবে যত টাকা ।
৩ ডাক্তারের অপকর্ম ফাঁস করলেন মেডিকেল ছাত্রী

৩ ডাক্তারের অপকর্ম ফাঁস করলেন মেডিকেল ছাত্রী

ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌ’ন হয়রা’নির অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) এসব শিক্ষককে নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ওই কলেজের সাবেক এক ছাত্রী। ওই স্ট্যাটাস দেয়ার পর থেকে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গঠিত (DAMC:The Students United-G) ফেসবুক গ্রুপে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন ওই ছাত্রী।

শিক্ষকদের হাতে তার মতো আরও অনেক ছাত্রী যৌ’ন হয়রা’নির শি’কার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, একই সঙ্গে যৌ’ন হয়’রানির নানা তথ্য সংযুক্ত করেছেন তিনি।ভুক্তভো’গী ছাত্রী ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। মেডিকেল কলেজের এফ-৩ ব্যাচের ওই ছাত্রী একই প্রতিষ্ঠানের রেসিডেনসিয়াল ফিজিশিয়ান ডা. ঝিলাম জিয়া, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদ ও এন্ডোক্রাইনোলজি ডায়াবেটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কে এম নাহিদুল হকের বিরুদ্ধে যৌ’ন হয়’রানির অভি’যোগ এনেছেন।

মেডিকেল কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের ফেসবুক গ্রুপে ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজে কিছু বিবাহিত ডাক্তার এবং আমাদের শিক্ষক আছেন, যাদের কেউ কেউ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আড়ালে এবং কেউ কেউ সাহসের সঙ্গে জনসম্মুখে ছাত্রীদের অ’শ্লীল কথাবার্তা ও ই’ঙ্গিত, বিনা অনুমতিতে গা’য়ে হাত দেয়া এবং বুলানো, এমনকি মাঝরাতে ফোন দিয়ে (যেদিন তাদের স্ত্রীরা বাসায় থাকেন না) যৌ’ন সম্পর্কের প্র’স্তাব দেন। কেউ কেউ যৌ’ন সম্পর্ক ভি’ক্ষা চান।

ওই দিকে যাওয়ার জন্য একাধিক কায়দায় ফোনে, চ্যাটে, মেসেজে, ভিডিওকল দিয়ে হয়রা’নি করেন। একাধিক ছাত্রীকে একইভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছেন তারা।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘কেউ আবার চাকরি ও চিকিৎসা দেয়ার নাম করে চেম্বার আওয়ার শেষে এবং ছুটির দিনে চেম্বারে ডেকে দরজা লক করে বিনা অনুমতিতে গায়ে হাত দেন, এমনকি জ’ড়িয়ে ধরেন। এদের মাঝে ছাত্রী বা জুনিয়র-সিনিয়র ফিমেল কলিগদের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নাই।

তারা শুধুই দেখেন কে দেখতে কেমন, কার শরী’র কত আকর্ষণীয় এবং কাকে কিভাবে ভা’গে আনা যায়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এদের বিরু’দ্ধে যৌ’ন হয়রা’নির মা’মলা করা যায়।’ ‘আমার ‘জানামতে’ এবং ‘অভিজ্ঞতামতে’ এরা হলেন- ডা. ঝিলাম জিয়া (মেডিসিন), ডা. কে এম নাহিদুল হক ও ডা. হারুনুর রশীদ (মেডিসিন)। গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে সাড়ে ১১টায় ইমো খোলার সঙ্গে সঙ্গে ডা. ঝিলাম জিয়া আমাকে মেসেজ এবং ভিডিও কল দিতেই থাকেন।

চতুর্থ বর্ষে থাকাবস্থায় ক্লাস চলাকালে আমার ফোন নাম্বার নেন ডা. ঝিলাম জিয়া। সেদিন থেকে বহুবার আমাকে মেসেজ করেছেন, যা তিনি আরও বহু ছাত্রীর সঙ্গে করেছেন।’ উল্লেখ করেন তিনি। স্ক্রিনশট দিয়ে ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘স্ক্রিনশট যা দেখছেন, এরপর তিনি হঠাৎ কল দিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের আলাপসহ আমাকে সে’ক্সচু’য়ালি কতখানি স্বামী সন্তুষ্ট করার ক্ষমতা রাখেন, তার চোখ কই কই যায়, আর কি কি ভালো লাগে, কি কি তিনি ছুঁ’য়ে দেখতে চান এসব কথা বলেন। এসব আমি রেকর্ড করে রেখেছি। স্ক্রিনশটে দেয়া নম্বর তার ব্যক্তিগত, নিশ্চিত হতে চাইলে ফোন দিতে পারেন।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আর ডা. কে এম নাহিদুল হক কি কি বিস্ময়কর কাজ চেম্বারের সময় শেষ হওয়ার পর এবং ছুটির দিনে চেম্বারে ডেকে চাকরি-চিকিৎসা দেয়ার নামে দরজা লক করে করেছেন, সেগুলো আর কেউ বলতে রাজি না হোক, আমি জানি, আমার সাবেক কলিগদের কাছে জেনে নিশ্চিত হতে পারেন। আমার দেখা সবচেয় চালাক নাহিদুল হক। তার এসব কাজকর্মের প্রমাণ দেখানো কঠিন। অ’পকর্ম ধামাচাপা দেয়ার জন্য তিনি একাধিক মানুষকে কর্মস্থলে এমনকি তাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে হু’মকি দিয়েছেন,

এমনকি হাসপাতালের ওয়ার্ডে মা’রতে পর্যন্ত গেছেন। তার বিষয়ে কলেজের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার এবং প্রাক্তন ইন্টার্ন ডাক্তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন।’ তিনি লিখেছেন, ‘সবশেষে ডা. হারুনুর রশীদের কথা আর কি বলব? তিনি ক্লিনিক্যাল ক্লাসে শুধুমাত্র ছাত্রীদের কাছে ডাকেন, বিনা অনুমতিতে গায়ে হাত দেন-আদর করেন। সেগুলোর সরাসরি শি’কার এবং কাউকে শি’কার হতে দেখা-দুটোই অত্যন্ত অস্ব’স্তির ব্যাপার।

পরীক্ষার ফলাফল তার হাতে-এজন্য অনেকেই নীরবে স’হ্য করে, প্র’তিবাদ করে না আর এসব প্রকাশও পায় না। কলেজের মেয়েদেরকে বলে রাখি, মেয়েরা, সাবধান হও। তোমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং কর্মস্থলের, এমনকি রোগী হয়েও এদের হাতে নিরাপদ নও।’ ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের রেসিডেনসিয়াল ফিজিশিয়ান ডা. ঝিলাম জিয়া বলেন, সে এসব কেন লিখেছে তা আমি জানি না। তার সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।একজন শিক্ষক হিসেবে ওই ছাত্রীকে এমন অ’নৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্র’স্তাব দেয়া কতটুকু যৌ’ক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে বি’রক্ত হয়ে ফোন রেখে দেন ডা. ঝিলাম জিয়া।ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি ডায়াবেটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কে এম নাহিদুল হক বলেন,

আমার চেম্বারে আমার সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিল ওই ছাত্রী। আমি রাজি না হওয়ায় আমার নামে এসব কথা ফেসবুকে লিখেছে। আমি ওই মেয়েটির বাবাকে বিষয়টি জানিয়েছি। ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.জহিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ওই ছাত্রী ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে সে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি সে মানসিকভাবে বিপর্য’স্ত। এ কারণে এসব স্ট্যাটাস দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, এরপরও ওই ছাত্রীর বাবাকে বলেছি ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে আসতে। তারা আসলে সামনাসামনি শুনে বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। যদি শিক্ষকরা কোনো অপ’রাধ করে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেব।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme