সর্বশেষ আপডেট
ঢাকায় প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে ছি’ন’তা’ইয়ে’র শিকার শিক্ষিকা, ভি’ডিও ভা’ই’রাল প্রবাসে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিয়ে সিলেটিদের মধ্যে সং;ঘর্ষ, নি;হত ১ মায়ের দুল বিক্রির টাকায় লেখাপড়া শুরু করা মারুফার এএসপি হওয়ার গল্প ধ’রিয়ে দেন একে, দুবাই প্রবাসীর ১৩ লাখ টাকা নিয়ে উ’ধাও এই নারী বাংলাদেশ-পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি সম্প্রচার করবে না বাংলাদেশি কোনো চ্যানেল, দেখবেন যেভাবে ঢাবির হলে আবরার স্টাইলে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর নি’র্যাতন ছেলেকে হ;ত্যা;র পর ডা’কা’তি নাটক সাজালেন সৎ মা পুত্রবধূকে ফাঁ’সাতে নিজের ১৫ দিনের সন্তানকে হ’ত্যা করলো মা! নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতে অ’সা’মাজিক কাজ, আ’ট’ক ৮ স্বামী প্রবাসী, ছাত্রীর মাকে নিয়ে উ;ধাও প্রাইভেট শিক্ষক
পুলিশের হাত থেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে গণধ’র্ষণ

পুলিশের হাত থেকে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে গণধ’র্ষণ

পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণধ’র্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর সবুজবাগ থানার সোর্স মো. তুষার এবং মাদ’কাস’ক্ত যুবক রিফাত ও সজীবের বিরু’দ্ধে। তাদের তিনজনই গ্রে’প্তারের পর এখন কা’রাগারে আছে। এর মধ্যে অভিযুু’ক্ত রিফাত আদালতে ইতোমধ্যে স্বীকারো’ক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিও দিয়েছে।
ভু’ক্তভো’গী কিশোরী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।

সে কোনো পুরুষ দেখলেই এখন আঁ’তকে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ১ জানুয়ারি দিনগত মধ্যরাতে হ’ত্যার হু’মকি দিয়ে সবুজবাগের পূর্ব রাজারবাগ হিন্দুপাড়ায় কাদিরের বাড়িতে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে গণধ’র্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছেন মেয়েটির স্বজনরা। তারা অভি’যোগ করেন, ভু’ক্তভো’গী কিশোরী ও তার মা থানায় মা’মলা করতে গেলে তাদের ২৪ ঘণ্টা সেখানে বসিয়ে রাখার পর মা’মলা গ্রহণ করে পুলিশ। নারী ও শিশু নি’র্যা’তন আইনে মা’মলাটি করেছেন কিশোরীর মা।

ভু’ক্তভো’গী মেয়েটির বরাত দিয়ে তার মা আমাদের সময়কে জানান, সবুজবাগের দক্ষিণ মাদারটেক বাজার রোড এলাকার একটি বাড়িতে সপরিবারে থাকেন তারা। তার স্বামী পেশায় রিকশাচালক। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে মেয়েটি। ফল আনতে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যায় ওই কিশোরী। বেলা সাড়ে ১১টায় কম্পিউটারের দোকান থেকে পরীক্ষার ফল উঠিয়ে সে বাসায় ফিরছিল। পথে পূর্বপরিচিত তরুণ রিফাত তার ফল দেখতে চায়।

কার্ড হাতে পেয়েই রিফাত মেয়েটিকে শর্ত দেয়- তার সঙ্গে ঘুরতে গেলে তবেই ফেরত দেওয়া হবে রেজাল্ট কার্ড। অনেক অনু’রোধ করেও কাজ না হওয়ায় রিফাতের শর্তে রাজি হয় মেয়েটি। মাদারটেকের আদর্শপাড়ায় গিয়ে মেয়েটিকে সেভেন-আপ দেয় রিফাত। গ্লাসে দেওয়া ওই পানীয় পান করার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমে আ’চ্ছন্ন হয়ে পড়ে মেয়েটি। প্রায় অ’চেতন অবস্থায় সেখানে একটি বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে যায় রিফাত।

এরপর আর কিছু মনে নেই তার। রাত ৮টার দিকে কিছুটা চে’তনা ফিরে এলে মেয়েটি নিজেকে আবিষ্কার করে মাদারটেকের নতুনপাড়ার একটি মাঠে। সেখান থেকে মেয়েটিকে ওই এলাকারই আরেকটি বাসায় রেখে চলে যায় রিফাত। ওই বাসার এক তরুণী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভু’ক্তভো’গী মেয়েটিকে বলে- রিফাত ভালো না, তোমার আরও সর্বনা’শ হবে, তুমি পা’লিয়ে যাও। ওই তরুণী তার বোরকা পরিয়ে মেয়েটিকে তার বাসা থেকে পা’লিয়ে যেতে সহায়তা করে।

কিন্তু পানীয়তে মে’শানো নে’শাজাতীয় দ্র’ব্যের ঘো’র না কা’টায় বেশিদূর যেতে পারেনি মেয়েটি। এরই মধ্যে রাস্তায় হঠাৎ পেছন থেকে তাকে টেনে ধরে রিফাত। ছেড়ে দেওয়ার অনেক অনু’রোধ করা হলেও রিফাতের হাত থেকে রে’হাই মেলে না। প্রায় অ’চেতন অবস্থাতেই তাকে ফের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে নতুনপাড়া পাওয়ার হাউসের মাঠের কাছে টহল পুলিশের হাতে ধ’রা পড়ে রিফাত ও মেয়েটি। এ সময়ও ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু করছিল তার।

মেয়েটির মা আরও জানান, পুলিশের জি’জ্ঞাসাবাদের মাঝেই সোর্স তুষার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কিছু একটা বলে। এরপর পুলিশ মেয়েটিকে থানায় না নিয়ে অথবা অভিভাবকদের জি’ম্মায় না দিয়ে তুলে দেয় তুষারের হাতে। পুলিশের হাত থেকে মেয়েটিকে ছাড়িয়ে সোর্স তুষার অন্ধকারাচ্ছন্ন ঝিলের পাশে চলে যায় রিফাত ও মেয়েটিকে নিয়ে। সেখানে মেয়েটিকে ধ’র্ষণের চে’ষ্টা চালালে প্রায় অ’চেতন মেয়েটি হাত জো’ড় করে অনু’নয় বি’নয় করে। কিন্তু এর পরও রে’হাই পায়নি।

তুষারের কথায় রাজি না হলে গ’লা কে’টে ঝিলে ভাসিয়ে দেয়ার হু’মকি দিয়ে কিশোরীকে পার্শ্ববর্তী হিন্দুপাড়ার একটি টিনের ঘরে নিয়ে যায় তুষার, রিফাত ও সজীব। সেখানে পালাক্রমে চা’লানো ধ’র্ষণে জ্ঞা’ন হারিয়ে ফেলে মেয়েটি। ভোরে নিজেকে সে আবিষ্কার করে ঘটনাস্থলের পাশেই একটি মাঠে, একা। একপর্যায়ে স্থানীয় এক নারী তার বি’ধ্বস্ত অবস্থা দেখতে পেয়ে নিয়ে যায় নিজ বাসায়। এ দিকে মেয়ে রাতে না ফেরায় দি’শেহা’রা হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা-বাবা।

না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়দেরও জানানো হয়। ভু’ক্তভো’গীর এক বান্ধবী জানায়, মেয়েটিকে ১ জানুয়ারি দুপুরে তিনি রিফাতের সঙ্গে যেতে দেখেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সন্দে’হভা’জন হিসেবে রিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয়রা। প্রথমে সে অ’স্বীকার করলেও মা’রধর শুরু হলে সে সব কা- বলে দেয়। তাকে সঙ্গে নিয়েই হিন্দুপাড়ার ওই নারীর বাসা থেকে মেয়েটিকে উ’দ্ধার করেন স্থানীয়রা। এর পর মেয়েটিকে নিয়ে ওর মা সবুজবাগ থানায় যান আইনি পদ’ক্ষে’প নিতে।

কিন্তু থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটির চিকিৎসার জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্তু ভু’ক্তভো’গী ও তার মাকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে মেয়েটিকে ওসিসিতে পাঠায় পুলিশ; রিফাতের দেওয়া তথ্যানুসারে সোর্স তুষার ও মা’দকাস’ক্ত যুবক সজীবকে আ’টক করা হয়। এর আগে, পুলিশ রাতে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে গেলে অথবা তার অভিভাবকদের হাতে তুলে দিলে সে গণধ’র্ষণের শি’কার হতো না।

সোর্সের হাতে তুলে দেওয়ার অন্যায় সিদ্ধা’ন্তের কারণে মেয়েটির সর্ব’নাশ হয়ে গেল। এই যখন অবস্থা, তখন মা’মলার বাদী মেয়েটির মা বলছেন, ‘সুন্দর তদন্তের’ কথা বলেও পুলিশের একজন তাদের কাছে টাকা চেয়েছেন। এ দিকে বাদী তার মেয়েকে গণধ’র্ষণ করার অভি’যোগ করলেও মামলায় একজনকে ধ’র্ষক (তুষার) ও অন্য দুজনকে ধ’র্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে আ’সামি করা হয়েছে। কেন? এ প্রশ্নে মেয়েটির মা বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না, পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত বলেছি।

তারাই এজাহার লিখেছেন। আমাকে সই করতে বলেছে, আমি শুধু সই করছি। এজাহারে পুরো ঘটনার উল্লেখ নেই জেনে অ’বাক হন তিনি। মাম’লার তদ’ন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই মো. বোরহান মিয়া বলেন, তুষার পুলিশের লিস্টেড সোর্স না। তবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করত বলে জানতে পেরেছি। ঘটনায় অভিযু’ক্ত তিনজনকেই গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিফাত আদালতে স্বীকারো’ক্তিমূ’লক জবা’নব’ন্দিও দিয়েছে। মেয়েটি গণধ’র্ষণের শি’কার হয়েছে কিনা, তা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। ঢামেক হাসপাতালের ওসিসি থেকে মেয়েটিকে দু-তিন দিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে, জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme