সর্বশেষ আপডেট
সৌদি আরবে ধরপাকড় চলছেইঃ ১৬ দিনে ফিরেছেন ১৬১০ বাংলাদেশি । ১০ বছর মালয়েশিয়ায় থেকে আবার সৌদি, ১৭ দিনের মাথায় মারা গেলো প্রবাসী । যে কারণে ৩১ বাংলাদেশিকে বিমানে তুলে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র । সৃজিতকে দুলাভাই বলে ডাকেন না মিথিলার ছোট বোন মিশৌরি । রাজধানী ঢাকায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ভাড়াটিয়া স্বামী । গণধ’র্ষণের শি’কার কিশোরীকে নিয়ে দুই থানা পুলিশের ঠেলাঠেলি, অবশেষে ৯৯৯ নম্বরে ফোন । অবশেষে মুখ খুললেন জেসমিন যেভাবে তাকে ধ’র্ষণ করা হয় ও কে কে করেন । দেহ ব্যবসার অভিযোগে দুই অভিনেত্রীসহ পরিচালক গ্রেফতার । হঠাৎ নির্বাচককে মুশফিকের ফোন, জাতীয় দল থেকে নাম কাটার অনুরোধ । ওড়না-টুপি পরতে মানাঃ যেসব যুক্তি দেখালেন আইডিয়াল অধ্যক্ষ ।
হাঁড়ির ভাতের অপেক্ষায় ক্ষুধার্ত ভাসমান ২ শিশু

হাঁড়ির ভাতের অপেক্ষায় ক্ষুধার্ত ভাসমান ২ শিশু

‘মা, হেই যে সকালে রুটি দিলা, আর তো কিছু দিলানা। ক্ষুধায় পেডটা জ্বলতাছে ফুটপাত ঘেঁষা রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ভাতের হাঁড়ি বসানো মাটির চুলায় আগুন জ্বলছে। আধো আলো আধো অন্ধকারে ফুটপাতের ওপর থেকে ভাতের হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে আছে দুটি শিশু। তাদের মা সেই চুলায় রান্নায় ব্যস্ত। রান্নায় ব্যবহৃত কাঠের লাকড়ির আগুনের উজ্জ্বল আলোর দিকে শিশু দুটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অপেক্ষাকৃত বয়সে বড় শিশুটি রান্নারত নারীকে প্রশ্ন করে,

‘মা, হেই যে সকালে রুটি দিলা, আর তো কিছু দিলানা। ক্ষুধায় পেডটা জ্বলতাছে।’ জবাবে শিশুটির মাকে বলতে শোনা যায়, ‘এইতো বাবা ভাত অইয়া গেছে। একটু অপেক্ষা কর, এই যে আলু কাটতাছি, ভাতের লগে আলু দিমু।’ এ দৃশ্য আজ (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৭টায় রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে পলাশীগামী রাস্তার মাঝামাঝি ব্যানবেইসের বিপরীত দিকের ফুটপাতের। নদী ভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে দুই বছর আগে লালমনিরহাট থেকে জীবিকার সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন রেশমা বেগম।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে রেশমা জানান, লালবাগ ও রমনা থানার বিভিন্ন ফুটপাতে দিন কাটে তাদের। কিন্তু কয়েক দিন পর পর পুলিশের লাথিগুতা খেয়ে এক ফুটপাত থেকে আরেক ফুটপাতে ঘুরে বেড়াতে হয়। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরেও পুলিশ এসে তাদের ফুটপাতের পলিথিনে ঘেরা ঘর ভেঙে দেয়। মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে পুরুষ সদস্যদের লাঠিপেটাও করে। রেশমা বলেন, ঘর ভেঙে দেয়ায় সারাদিনই মালপত্র নিয়ে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকায় চুলায় আগুন জ্বালাতে পারেননি।

ঘর ভেঙে দেয়ার পর বাচ্চাদের নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ চলে গেলে ফুটপাতের বিপরীত দিকের রাস্তায় নতুন করে পলিথিন দিয়ে ঘর বানান। এরপর এক কেজি চাল চুলায় তুলে দেন। শুধু রেশমা নন, অভাবের তাড়নায় একই এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রে ফুটপাতে বাস করে। কেউ রিকশা চালায়, কেউ চায়ের দোকানে কর্মচারী, কেউ বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ, কেউবা ভিক্ষা করে সংসারের খরচ চালায়।
হাজেরা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা বলেন, পেটের ক্ষুধার জ্বালায় ঢাকা শহরে আসতে হয়েছে। কয়েক দিন পর পর পুলিশের লাথিগুতা খেয়ে এক ফুটপাত থেকে আরেক ফুটপাতে দিন কাটে। এ জীবন আর ভালো লাগে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme