গু’লি লাগার পরেও ফুটবল খেলতে পারবো ক’খনো ভা’বিনিঃ জামাল ভূঁইয়া ।

গু’লি লাগার পরেও ফুটবল খেলতে পারবো ক’খনো ভা’বিনিঃ জামাল ভূঁইয়া ।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বড় হয়েছেন ডেনমার্কে। দেশের টানে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আসেন তিনি। এখন তিনি জাতীয় দলের অ’ধিনায়ক। কিন্তু তিনি ফুটবলে ফিরতে পারবেন এটা কখনোই ভা’বেননি। ২০০৭ সালে তার স’ঙ্গে ম’র্মান্তিক একটি ঘ’টনা ঘ’টেছিল।

এ প্র’সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটা ২০০৭ সালের ঘ’টনা। আমার বয়স তখন ১৬/১৭ বছর। স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলাম। আমরা যেখানে থাকতাম, সেই জায়গাটা তেমন ভালো ছিল না। আমি অবশ্য ভয় পেতাম না। তবে সেদিন একজন লোক আমাকে তা’ড়াতা’ড়ি বাসায় ফিরতে বলেন। তার স’ঙ্গে কথা বলার কয়েক মিনিট পর আমাকে লক্ষ্য করে চারটি গু’লি করা হয়। একটি কনুইয়ে আর অন্যটি তলপেটে লাগে। বাকি দুটি গু’লি বেরিয়ে যায় শ’রীর ঘেঁষে। দুই দিন কোমায় ছিলাম, তিন/চার মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। সেরে উঠে ১৪ মাস পর ফুটবল খেলতে শুরু করি’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ফুটবল ছেড়ে দিতে হবে। খেলতে না পারলে ভালোভাবে লেখাপড়া করার কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু কোপেনহেগেন যুব দলের কোচ জনি লারসন আমাকে মাঠে ফিরতে উৎসাহ দেন। তিনি নিকলাস বেন্ডনারের ঘ’নিষ্ঠ ব’ন্ধু।

আর্সেনালে যাওয়ার আগে কোপেনহেগেনে খেলতেন বেন্ডনার। আমি আবার খেলা শুরু করলাম, ওই ঘটনার ৭ মাস পর ট্রেনিংয়ে গেলাম। সেই সময় আমার ওজন ১৪ কেজি কমে গিয়েছিল।’

আজকের তাজা খবর… ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের শিশুকালের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গত সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘বুয়েটিয়ান’ ফেসবুক পেজে ‘ছোট্ট আবরার সোনামণি’ ক্যাপশনে আবরারের শিশুকালের একটি ছবিটি পোস্ট করা হয়। যা মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ছবিটিতে ৩৬ হাজারে (লাইক) রিয়েকশন, ৫৪২টি কমেন্ট এবং ৭৮৭টি শেয়ার হয়েছে।

অনেকেই কমেন্ট করেছেন পোস্টটিতে। কয়েকজন মন্তব্য করেছেন… সুচনা ইসলাম আলো লিখেছেন, চেহারায় নুর আছে ছোটবেলা থেকেই। আল্লাহ মনে হয় তাদের প্রিয় রুহ গুলাকে অনেক আগে থেকেই আলাদাভাবে বিশেষ বৈশিষ্টে স্পেশাল করে দেন।

Hariz Ahmed লিখেছেন, অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে. (প্রিয় ভাই শহীদ আবরার ফাহাদ,) “নিশ্চয়ই পুন্যবানেরা জান্নাতে সুখে থাকবে” আল- কোরআন।

Mansura Mahin লিখেছেন, যতবার তোমার খবর পড়েছি,দেখেছি কোনভাবেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অনেক দোয়া রইল, আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের উচু মাকাম দান করুক এই কামনায় করি,,, তোমার মা বাবার কান্নার মুল্য তুমি পাবে ইনশাআল্লাহ…

শেহজাবিন রহমান রিমঝিম লিখেছেন, তোমাকে কখনও বাস্তবে দেখি নি,ভাই। এরপরেও তোমার কথা ভাবলে,কষ্টে বুকটা ফেটে যায়। আল্লাহ তা’আলা…তোমাকে জান্নাত নসীব করুক। Syed Bahar Uddin লিখেছেন, “এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”
তোমারি এ রক্তের বিনিময়ে আজ ও আগামীর বুয়েটের শিক্ষাঙ্গন পুরোপুরি কলুষমুক্ত হোক্। জয় হোক সত্য সুন্দরের! নির্মুল হোক সকল দানবীয় অসুরদের।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনারিংয়ের (ইইই) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সঙ্গে শিশির ভেজা পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ফাহাদের দেখা পেলেন না তিনি। অকালে চলে যাওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ওই তরুণীর। গত ২০ জুন, ২০১৯ তারিখে সামাজিক মাধ্যমে একটি খোলা চিঠিতে নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন নাম না জানা ওই তরুণী। ওই পোস্টে লেখা হয়েছে,

#266 To: Abrar Fahad (EEE) ভাইয়া, আশা করি ভাল আছেন। আপনি আমাকে মনে রেখেছেন কি না জানি না। কিন্তু আমি আপনাকে ভালভাবেই মনে রেখেছি। আপনার ক্লাস করেছিলাম কুষ্টিয়াতে থাকতে। আপনার কথা বলার স্টাইল, আপনার আত্মবিশ্বাস আমাকে অনেক মুগ্ধ করেছে। হাঁটবেন আমার সাথে শিশির ভেজা পথে? আমি কিন্তু অপেক্ষায় থাকলাম। Someone from DMC k-76

আবরারকে উদ্দেশ করে লেখা কোনো এক তরুণীর পোস্ট বুয়েট’১৭ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস অফিসিয়াল নামে ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে নিজের নাম পরিচয় দেননি ওই তরুণী। পোস্টের কমেন্টে বেশ কয়েকজন আবরার ফাহাদকে মেনশন করলেও তার কোনো রিপ্লাই চোখে পড়েনি।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এরমধ্যে চার মাস আগের সেই পোস্টটি নিয়ে ফেসবুকে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে প্রায় ১২শ বার। মন্তব্যও পড়েছে কয়েক হাজার।

অন্তর বসু অন্তু নামে একজন ওই পোস্টে কমেন্ট করেছেন, ‘শিশির ভেজা পথে হাঁটার জন্যে এ অপেক্ষার কোনো সীমা নেই। অনন্ত মহাকাশের অন্তে হারিয়ে যাওয়া যাত্রী কখনো আর ফিরে আসে না। তাই এ অপেক্ষা শেষ হবার নয়। হয়ত কোনো একদিন কোনো অচেনা জায়গায় হঠাৎ করেই সাক্ষাত হয়ে যাবে। অপেক্ষাটা শুধু সেদিনের জন্য।’

নামিরা নামে একজন লিখেছেন, ‘পোস্ট/কমেন্ট কোনোটাতেই আবরার ভাইয়ার কোনো রিয়েক্ট পর্যন্ত নাই, আহা! এমন ছেলে আছে কয়জন এই দুনিয়ায়! পৃথিবীটা আবরার ভাইয়ের জন্য উপযুক্ত ছিলো না।’ সুমন খান লিখেছেন, ‘আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, যার সাথে আপনি শিশির ভেজা পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন তাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।’ collected: The Bangladesh Today

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]