সন্তানের খাবার জোগাতে না পেরে মায়ের আ’ত্মহ’ত্যা ।

সন্তানের খাবার জোগাতে না পেরে মায়ের আ’ত্মহ’ত্যা ।

ফরিদপুরে সন্তানের খাবার জোগাতে না পেরে সালমা বেগম (৩২) নামে এক মা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছেন। রবিবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে ভিমিরকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সালমা বেগম ওই গ্রামের তাবিজ বিক্রেতা ইকরাম মাতব্বরের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, সকালে রান্না ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেন সালমা বেগম। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ জানান, সালমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্যতায় ভুগছিলেন।

নিজের চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবার জোগার করতে না পারায় তিনি মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এসব কারণেই তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন… কবর খুঁড়ে দিলেও কোনো পারিশ্রমিক নিতেন না তিনি। কবর খুঁড়তে খুঁড়তে এটা এখন তার ভালোলাগা ও মানসিক প্রশান্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো মানুষের মৃ’ত্যুর খবর পেলেই সব কাজ ফেলে কোদাল হাতে ছুটে যান গোরস্থানের দিকে। এসব কথা জানান নূর মোহাম্মদ। তিনি বলেন,

এক সময় দিনে তিনটি কবরও খুঁড়েছেন কিন্তু বার্ধক্যের কারণে এখন আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারেন না। প্রতিমাসে ৮ থেকে ১০ জন মৃ’তের জন্য কবর খুঁড়েছেন।

নূর মোহাম্মদ। বয়স ৮০ বছর। এলাকার মানুষ তাকে নুরু চাচা বলেই ডাকেন। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ৪০ বছর ধরে মৃ’ত মানুষের জন্য কবর খুঁড়ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আজাইপুর মহল্লার বাসিন্দা এই নূর মোহাম্মদ।

কারো মৃ’ত্যুর সংবাদ পেলেই ছুটে যান গোরস্থানে। কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে দাফনের শেষ পর্যন্ত তিনি সহযোগিতা করেন। তিনি জানান, দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। দিনমজুরি করে ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। সবাই এখন নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

তিনি কখনো মাটি কাটা, কখনো দিনমজুর আবার কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করে রোজগার করেন। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে টিন ও মাটির টালির ছাপড়া ছোট একটা ঘরে বসবাস করেন।

বয়সের ভারে শরীরটা এখন দুর্বল হয়ে গেছে। আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তবে এখন পর্যন্ত কারো কাছে হাত পাতেননি বা কারো কাছে আর্থিক সহযোগিতা নেননি।

নিজের রোজগারেই স্ত্রীকে নিয়ে সুখে আছেন বলে জানান নূর মোহাম্মদ। তিনি আরো জানান, মাটি কাটার কাজ করার সুবাদে প্রথম দিকে মানুষ তাকে কবর খোঁড়ার জন্য ডাকতো।

সে হিসেবে সবমিলিয়ে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার মৃ’তের কবর খুঁড়েছেন তিনি। গত ৪০ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মৃ’ত মানুষের দাফনের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন।

শুধু তার নিজের এলাকাতেই নয়, আশপাশের পাড়া মহল্লায় কেউ মা’রা গেলেই তিনি ছুটে যান। অনেক সময় মৃ’তের আত্মীয়-স্বজন তাকে ডেকে নিয়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আজাইপুর মহল্লার সারোয়ার হোসেন বলেন, কারো মৃ’ত্যুর খবর পেলেই ছুটে যান নুরু চাচা।

কারো কাছে টাকা পয়সা নেন না। কোথাও কাজ করার সময় কোনো মানুষের মৃ’ত্যুর খবর পেলে কাজ ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি চলে যান কবর খোঁড়ার জন্য। কবর খোঁড়ার জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেন না। কবর খোঁড়ার কারিগর নুরু চাচা আমাদের এলাকার গর্ব এবং সবার শ্রদ্ধারপাত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme