সর্বশেষ আপডেট
মেডিকেলে চান্স পেলো রাজমিস্ত্রির মেয়ে জাকিয়া সুলতানা কলেজে না গিয়েও এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় নেহা । বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে যা বললেন মালয়েশিয়ার পুলিশপ্রধান । বাড়ির নিচতলায় গাড়ী চালকদের জন্য থাকা ও নামাজের ব্যবস্থা করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী । প্রেমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় গৃহবধূ, সীমান্তে উত্তে’জনা । গোয়ালঘরে শিকলে বাঁধা বৃদ্ধা মা বললেন, মোর পোলারা ভালো । সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কাঁদলেন প্রার্থী । গরু ছেড়ে নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হোনঃ মোদিকে এক নারী । যে কারণে তুহিনকে নি’র্মমভাবে হ’ত্যা করলেন বাবা । পিয়ন থেকে যেভাবে ১২০০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগের আনিস ।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাপলুডুঃ স্বপ্নভঙ্গের খেলায় মৃ’ত্যু মিছিল ।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাপলুডুঃ স্বপ্নভঙ্গের খেলায় মৃ’ত্যু মিছিল ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ২০১৩-১৪ সেশন স্নাতকের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মোনায়েম। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। স্নাতক শেষে বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। নানা প্রতিকূলতায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যখন ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছিল চরম হতাশার মাঝেই চিরবিদায় নেয় মোনায়েম। গত বুধবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ত্রিশালের বৈলরে নিজের বাসায় রাত ২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাদ যোহর তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোনায়েম ছিলেন সবার বড়। তার ছোট এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। বাকৃবিতে ভর্তি হওয়ার পর নাজমুল আহসান হলে ওঠেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে প্রচুর পড়ালেখা করেন এবং মেধাতালিকায় পজিশনে থাকেন। পরবর্তীতে বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। সেখানেও ভালো ফল করেন তিনি। বর্তমানে তিনি থিসিস সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কারণে কয়েকবার সার্কুলার হলেও তার বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। দিন যত যাচ্ছিল তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ক্ষীণ হচ্ছিল আর প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন।

এ বিষয়ে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি মোনায়েম প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছিল। সবসময় শিক্ষক হওয়ার অনিশ্চয়তার কথা বলত আর কাঁদত। ও কথার মাঝে মাঝে হঠাৎই অন্যমনস্ক হয়ে যেত। এক বন্ধু বলেন, ঐ দিন বিকেলে ওর সাথে কথা হয় তখন বলতেছিল আমার অনেক খারাপ লাগতেছে কেন জানি। আরেকজন বলেন, আমরা পড়া না বুঝলে ও আমাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে দিত। সত্যিকার অর্থে যারা পজিশনে ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম যোগ্য ছিল।

এ দিকে মোনায়েমের মৃত্যুতে শিক্ষকদের অবহেলা ও জানাজায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে মোনায়েমের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে কয়েকজন সহপাঠীসহ ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ছোলাইমান আলী ফকির তার বাসায় যান।

একটা টিচার ক্যান্ডিডেট ছেলেকে আশা দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে, বার বার এভাবে আশা ভাঙার কোন মানে হয়না। আপনি পারবেননা শুরুতেই সরাসরি না করে দিতেন। আপনারা তো শুধু বাহির টা দেখে যা তা ব্যবহার করেন একটা স্টুডেন্ট এর সাথে। কারো ভিতরের অবস্থা টা একটুও জানতে চাননা কখনো। একটা ছেলে কতটা ডিপ্রেশন এ ভুগলে, নামাজ শেষে মসজিদে শুয়ে শুয়ে কাঁদে, কতোটুকু প্রেশার দিলে,রাফ বিহেব করলে সুপারভাইজার পাল্টাতে বাধ্য হয়।

কতোটা ডিপ্রেশনে থাকলে এই বয়সে একটি ছেলে স্ট্রোক করতে পারে,তা আপনাদের কাছেই প্রশ্ন রয়ে গেলো। একটি স্টুডেন্ট যখন মাস্টার্স এ উঠে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয় সে অমুক ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। ডিপার্টমেন্ট টা হয় তার পরিবার আর সুপারভাইজার হন তার গার্জিয়ান। ওর বাসা তো খুব বেশি দূরে ছিলো না।ভার্সিটি থেকে মাত্র ৩০ মি. এর রাস্তা। ডিপার্টমেন্টের একটি টিচার তো দূরের কথা, সুপারভাইজার কেউ তো দেখলামনা দেখতে যেতে। আপনাদের মনুষ্যত্বের গ্রাফটা কোথায় নেমেছে, একটু খেয়াল করে দেখবেন। সবশেষে আমি শুধু এটাই বলবো, এটা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো না, আপনারা অনেকগুলো মানুষ এর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত আছেন। 😓

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme
[X]