গণেশ বিসর্জন দিতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃ’ত্যু ১১ জনের । (ভিডিও)

গণেশ বিসর্জন দিতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃ’ত্যু ১১ জনের । (ভিডিও)

ভারতের ভোপালের একটি নদীতে সনাতন ধর্মীয় দেবতা গনেশ বিসর্জন দিতে গিয়ে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ১৩ জন। মূলত ভারতের মধ্যপ্রদেশের খাটলাপুর ঘাটে গণপতি বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ভোপালের খাটলাপুরা ঘাটে দুটি নৌকাকে একসঙ্গে করে তার ওপর গনেশের বিশালাকার মূর্তি ও সয়্গে অন্যান্য জিনিস তুলে দেয়া হয়। কিন্তু নৌকা দুটি অত ওজন নিতে পারেনি। নদীতে মাঝপথেই নৌকা দুটি ডুবে যায় বল মনে করা হচ্ছে।

এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি। পুলিশ আরও জানায়, গণেশ বিসর্জন দিতে গিয়ে লাইফজ্যাকেট পরেননি নৌকার কোনো যাত্রী। তাই এত লোকের প্রাণহানি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ভারতে এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় এভাবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকা উল্টে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আরো পড়ুন… বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের৷ শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান দিয়েই সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিত পাকিস্তান৷ সে তথ্য না জেনেই টাকা পাঠাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ৷

এদিন রাশিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইমরান খান বলেন আশির দশকে পাকিস্তান মুজাহিদিন তৈরি করত৷ এই মুজাহিদিনদের কাজে লাগানো হত সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান, যখন সোভিয়েত আফগানিস্তান দখল করছিল৷ তাই যে সব মুজাহিদিনকে সেই সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তাদের পিছনে ছিল আমেরিকার টাকা৷

তবে ইমরান খানের মত সেই সময় পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে ভালো হত, কারণ যে সব মুজাহিদিনদের তৈরি করা হয়েছিল, তারাই এখন জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে পাকিস্তানের ওপর হামলা চালাচ্ছে৷ তিনি এদিন জানান, আমেরিকা এখন আফগানিস্তানের ওপর দাদাগিরি ফলাচ্ছে, যা বড়সড় দ্বিচারিতা৷ অথচ পাকিস্তান তাদের সাহায্য করতে গিয়ে নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের জালে জড়িয়ে গিয়েছে৷

এদিকে, দিন কয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এখনই পুরোপুরি মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে না। তালিবানরা যাতে ফের মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য কাউকে সেখানে থাকতেই হবে।কিন্তু এবার ট্রাম্পের মুখে বারবার উঠেছে ভারতের নাম। বিশেষত তিনি উল্লেখ করেন, ভারত একেবারে কাছে থাকলেও লড়ছে না৷

চলতি বছরেই আফগানিস্তানের ১৮ বছর ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করার পরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়ে সেখানে। সামরিক উপায়ে সেখানে কোনও সমাধান নেই বুঝে এখন শান্তি আলোচনায় বসেছে আমেরিকা। তালিবানদের সঙ্গে হবে আলোচনা। একাধিকবার তালিবানদের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে৷

“চিন, রাশিয়া এবং আমেরিকা মনে করছে পাকিস্তান আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে,” মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিবৃতিতে একথা জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

ইসলামাবাদ এই প্রসঙ্গে আগে জানিয়েছিল, পাকিস্তানের মতো একটি দেশে যেখানে এক বড় সংখ্যক পাশতুন মানুষের বাস, তাকে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে অন্তর্ভুক্ত করা অবশ্যই প্রয়োজন এবং আফগানিস্তানের বিষয়ে বিশ্বের বড় শক্তিগুলির পক্ষে পাকিস্তানের স্বার্থকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 newstodaybd.com
Design BY NewsTheme